1>উর্বশীর অভিশপ্ত জীবন
অপ্সরা হল হিন্দু পুরান অনুসারে মেঘ এবং জল থেকে উদ্ভুদ্বু নারী আত্মা।
অপ্সরাদের অধিপতি ছিলেন কামদেব। এরা নাচ,গান করতে খুব ভালবাসত। এরা পাশা খেলায় ও খুব পারদর্শী ছিল।
অপ্সরাদের মধ্যে অন্যতমা
হলেন উর্বশী । উর্বশী নারায়ণের উরু ভেদ করে জন্মগ্রহণ করেন তাই তার নাম উর্বশী।
একদিন ইন্দ্রের নৃত্যসভায় রাজা পু্রূরবা আমন্ত্রিত হন। নৃত্যের জন্য উবর্শীকে অনুরোধ করলে তিনি নৃত্য শুরু করেন। কিন্তু উর্বশী রাজা পুরূরবার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে তার দিকে দৃষ্টি দিলে উর্বশীর নৃত্যের ছন্দ ভঙ্গ হয়। ফলে ইন্দ্র উর্বশীকে অভিশাপ দেন। এবং তাকে পৃথিবীতে সাধারণ মানুষ হিসেবে বসবাস করতে হবে।
উর্বশী এই অভিশাপ শোনার পরে দেবতা ইন্দ্রের কাছে একটি আর্জি করেন। উর্বশী মর্ত্যলোকে পু্রূরবার স্ত্রী হিসেবে থাকতে চান।
দেবতা ইন্দ্র তার এই মনোবাসনা পুরণ করেন কিন্তু এখানে ইন্দ্র কয়েকটি শর্ত দিয়ে দেন। শর্তগুলো
অনেকটা এই রকম যে- দিনে তিনবার পুরূরবা উর্বশীকে আলিঙ্গন করতে পারবে। উর্বশীর ইচ্ছের বিরুদ্ধে পুরূরবা কখনো উর্বশীর সাথে মিলিত হতে পারবেন না এবং উর্বশী কখনো পুরূরবাকে নগ্ন অবস্থায় দেখতে পারবে না।
উর্বশী এই শর্তগুলো মেনে নিয়ে মর্ত্যলোকে পুরূরবার স্ত্রী হিসেবে বসবাস করতে রাজী হলেন। এই ভাবে পুরূরবার স্ত্রী হিসেবে উবর্শী বহু বছর পার করে দেন। বহু বছর গত হবার পর স্বর্গের সভাসদগন স্বর্গে উর্বশীর অভাব অনুভব করলেন। এখন কি ভাবে তাকে ফিরিয়ে আনা যায় সেই পথ খুঁজতে থাকেন। অনেক চিন্তা ভাবনার পরে তারা একটি বুদ্ধি বের করলেন। তো স্বর্গের সভাসদরা উর্বশীর শয়ন কক্ষে দুইটি মেষশাবক বেঁধে দিয়ে যান স্বর্গের উপহার হিসেবে। এই মেষশাবক দুইটি সবসময়ই উর্বশীর শয়ন কক্ষেই থাকত।
তো একদিন রাতে এই দুইটি মেষশাবকের মধ্যে একটি চুরি করে নিয়ে আসার পরিকল্পনা করেন স্বর্গের সভাসদরা। মেষশাবক চুরি করার সময় উর্বশী টের পেয়ে যান। উর্বশী রাজাকে অনুরোধ করেন চোর ধরে আনার জন্য। রাজা উর্বশীর কথায় হন্তদন্ত হয়ে নিদ্রা থেকে উঠে পরেন। এই সময় রাজা
উলঙ্গ অবস্থায় ছিলেন। রাত ছিল বিধায় রাজার উলঙ্গ অবস্থা উর্বশী দেখতে পাচ্ছিলেন না। এই সময় স্বর্গের সভাসদরা এটা বুঝতে পেরে দ্রুত বজ্রের সাহায্যে বিদ্যুতের সৃষ্টি করলেন এবং তার আলোয় ঘর ভরে উঠল। এই সময় উর্বশী রাজার নগ্ন অবস্থা দেখে ফেলে। ফলে উর্বশী তার শাপ মুক্ত হয়ে সাথে সাথে অদৃশ্য হয়ে যান।
উর্বশীকে হারানোর শোকে রাজা পুরূরবা দেশে দেশে ঘুরে বেড়াতে লাগলেন। ধীরে ধীরে উর্বশীকে পুনরায় পাবার আশা ক্ষীণ হতে লাগল। কিন্তু একদিন কুরুক্ষেত্রের নিকটে আরো চারজন অপ্সরীর সাথে উর্বশীকে দেখতে পেলেন স্নানরত অবস্থায়। রাজা উর্বশীকে বার বার অনুরোধ করতে লাগলেন ফিরে আসার জন্য। কিন্তু উর্বশী কোন ভাবেই রাজী হচ্ছিল না। এই ভাবে বেশ কয়েক দিন যাওয়ার পর একদিন উর্বশী বলেন- বছরের শেষ রাতে আসলে আমি তোমার সাথে শয্যা গ্রহণ করব। এর ফলে
আমাদের একটি পুত্র সন্তান জন্ম হবে। তো রাজা পুরূরবা বছরের শেষ রাত্রিতে এসে উর্বশীর সাথে শয্যা গ্রহণ করলেন এবং তাদের একটি পুত্র সন্তান জন্ম গ্রহণ করল। এভাবে প্রতিবছরের শেষ
দিন উর্বশী ও পুরূরবার মিলন হতে থাকল এবং প্রতিবছর একটি করে পুত্র সন্তান জন্ম নিতে থাকল। বলা হয় যে উর্বশী ও পুরূরবার পুত্র সন্তানের সংখ্যা পাঁচ জন।
===========================
No comments:
Post a Comment