6> || অক্ষয় তৃতীয়া ||
<-----©-আদ্যনাথ--->
অক্ষয় অর্থে ক্ষয়প্রাপ্ত হয় না।
চান্দ্র বৈশাখ মাসের শুক্লাতৃতীয়া,
এই দিনটি আমাদের অক্ষয় তৃতীয়া।
যে কোনও শুভ কাজের আদর্শ দিন,
তাই আমাদের প্রিয় অক্ষয় তৃতীয়ার দিন।
হিন্দু ও জৈন সকলের মান্য বিশেষ দিন।
এমন শুভদিনে জন্মে ছিলেন পরশুরাম
যিনি বিষ্ণুর ষষ্ঠ অবতার।
মহাভারতের রচনা শুরু হয়ে ছিলো এদিন।
মহর্ষি বেদব্যাস বলছেন,
আর ভগবান গণেশ লিখে চলেছেন,
মহাভারত মহাকাব্য।
যে কাব্য পঞ্চম বেদ হিসেবে স্বীকৃত।
এই দিনেই হয়েছিল সত্য যুগ শেষ আর ত্রেতাযুগের সূচনা।
এই দিনেই ভগীরথ গঙ্গা দেবীকে
এনে ছিলেন মর্ত্যে । এদিনই কুবেরের তপস্যায় তুষ্ট মহাদেব
অতুল ঐশ্বর্য প্রদান করেন কুবেরকে।
এদিনই কুবেরের হয়েছিল লক্ষ্মী লাভ
তাই এদিন বৈভব-লক্ষ্মী পূজায় হয় লাভ।
এইদিন থেকেই পুরীধামে জগন্নাথদেবের
রথযাত্রার রথ নির্মাণ কার্য্য হয় শুরু হয়।
এই পবিত্র তিথিতে সকল শুভকার্যের
অনন্তকাল শুভ অক্ষয় লাভ হয়।
অশুভ কার্যে অশুভ অক্ষয় পাপ হয়।
কেদার-বদ্রী-গঙ্গোত্রী-যমুনোত্রীর
এইদিনেই সকল দুয়ার খোলে।
দীর্ঘ ছয়মাস বন্ধ থাকার পরে।
দ্বার খুললেই হয় দর্শন অক্ষয় প্রদীপের,
যে প্রদীপ জ্বালিয়ে আসা হয়েছিল
দীর্ঘ সেই ছয়মাস আগে,
দুয়ার বন্ধের কালে।
বর্তমানে শহর ও গ্রামে এই তিথিতে
গৃহী সকলে সোনা, রূপার গয়না কেনেন।
ভাবনা এমন এই শুভ তিথিতে
রত্ন বা সোনা ক্রয়ে গৃহে শুভ যোগ হবে,
সাথে শুখ ও সম্পদ বৃদ্ধি হবে।
বিষ্ণু পূরণে পাই
এক অহংকারী কৃপণ ব্রাহ্মণের কাহিনি।
একদিন খিদে,পিপাসায় কাতর এক ব্যক্তি
এলেন ব্রাহ্মণের দ্বারে
জল পিপাসায় অতি ক্লান্ত হয়ে।
ব্রাহ্মণ দরজা বন্ধ করে দিলেন।
কিন্তু ব্রাহ্মণ-পত্নী ছিলেন দয়াবতী অতি,
স্বামীর নিষেধ অমান্য করে তিনি
তৃষ্ণার্ত ব্যক্তিকে অন্ন ও জলদিলেন।
মৃত্যুর পর ব্রাহ্মণের ঠাঁই হয় নরক লোকে।
সেখানে অন্ন-জল বিনা নিদারুণ কষ্টে
ব্রাহ্মণের আত্মার দিন কাটে।
অবশেষে পত্নীর পুণ্যকর্ম স্পর্শে
মুক্তি পেল ব্রাহ্মণের আত্মা।
ব্রাহ্মণের হলো পুনর্জন্ম লাভ ।
তৎপর স্বপ্নাদেশে ব্রাহ্মণ
নিজ কুকর্মের কথা জানালেন।
আর মুক্তির উপায় হেতু
করেন ভক্তিভরে অক্ষয় তৃতীয়ার ব্রত।
পূর্ব জন্মের পাপস্ক্ষালন হল নবজন্মে।
আবার দ্বাপর যুগের মহান কথা,
বাল্যসখা সুদামা গেলেন বৃন্দাবন থেকে
সুদূর দ্বারকায় শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গে দেখা করতে
সুরমা এনেছিলেন কাপড়ের পুটুলিতে বেঁধে
তিনমুঠো তণ্ডুল।
কৃষ্ণ পরম তৃপ্তিতে তণ্ডুল করেন গ্রহণ,
সেদিনও ছিলো অক্ষয় তৃতীয়া,
এই দিনেই কৃষ্ণ করেন সুদামার দারিদ্র দূর।
আর দিলেন উপহার অঢেল সম্পদ দান।
সুদামা ফিরে এসে বৃন্দাবনে দেখেন
কোথায় তাঁর পর্ণকুটির!
সেখানে সুন্দর এক বাড়ি।
রয়েছেন স্ত্রী বসুন্ধরা ও সন্তানরা।
পৌরাণিক কথা অনুসারে শ্রীকৃষ্ণের কাছে
অক্ষয় তৃতীয়ার মাহাত্ম্য জানতে চাইলেন রাজা যুধিষ্ঠির।
উত্তরে কৃষ্ণ একটি বাক্যই করেন প্রয়োগ,
জেনে রাখুন এই দিনের মাহাত্ম্য অনন্ত।
পাণ্ডবদের বনবাসের কালে যুধিষ্ঠিরকে
সূর্য ভগবান অক্ষয় তৃতীয়ার দিনেই
অক্ষয় পাত্র করেছিলেন দান।
আর এই অক্ষয় তৃতীয়ার দিনই কৃষ্ণ
করেছিলেন দ্রৌপদীর লজ্জা নিবারণ।
অক্ষয় তৃতীয়ার দিনে
মা গঙ্গা মর্তে অবতরণ করেন।
এদিন শিব, গঙ্গা, কৈলাস, হিমালয় ও
ভগীরথ পূজা গ্রহণ করেন।
কৃষিপ্রধান দেশ ভারতবর্ষ,
অক্ষয় তৃতীয়ার দিনটিতে
অনেকে ই ধরিত্রীদেবীর পুজো করেন।
এইটুকুই আমার মস্তিষ্ক ভাণ্ডারে
অক্ষয় তৃতীয়ার জ্ঞান।
<-----©-আদ্যনাথ--->
【--anrc--08/05/2019---】
【=রাত্রি:01:31:22=】 【=তেঘড়িয়া=কোলকাতা -59=】
============.===============
No comments:
Post a Comment